ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। তাদের সাথে যোগ দেয় দেশটির বিরোধী দলগুলোও। অবশেষে গত শনিবার দুপুরের দিকে পদত্যাগ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সরকারি জবাবদিহি এবং মোদি সরকারের শাসনক্ষমতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তোলে এই আন্দোলন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশ্লেষণে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় ছাত্রসমাবেশে পরিণত হয়েছিল।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া বড় আন্দোলনগুলো—যেমন নাগরিকত্ব আইন বা কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলন মূলত আদর্শিক বা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু সিজেপির আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো ইয়ামিনি আয়ারের ভাষায়, ভারতের পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা জাত, শ্রেণি ও লিঙ্গের বিভাজন অতিক্রম করে বিপুলসংখ্যক তরুণকে প্রভাবিত করে। ফলে এই আন্দোলন কোনো একক স্বার্থগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেনি।
এক্সের ছয় শব্দ থেকে আন্দোলন শুরু হয়
‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে আসে?’ এক্সে লেখা মাত্র ছয়টি শব্দ। ক্ষোভের মুহূর্তে করা এই পোস্টই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলনের সূচনা করবে— এমনটি হয়তো কল্পনাও করেননি ৩০ বছর বয়সী রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিজিৎ দীপকেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত মুখ।
গত ১৬ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এক বক্তব্যে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেন। পরে তিনি বলেন, তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে দীপকের সেই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জন্ম হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে

